গ্রামের পুরানো আলো ঘরের ছাদে ফুটে উঠেছিল, কিন্তু
শহরের ঝামেলা তার ভিতরে প্রবেশ করছিল। স্মৃতিকথা
গ্রামের জমিদারি ঐতিহ্য ধরে রাখার একটি মূল উপায়
হিসাবে চালু হয়েছিল—তবে এখন সেটি স্থানীয় ছেলেদে
র কাছে কেবল একটি গল্প হয়ে গেছে। ত্যাগী মা বাড়ি
র বাইরে কোনও মানুষকে স্পর্শ করতে চায় না, তবে তা
র মনে স্মৃতিচারণার জন্য সেই গ্রামের পুরো ইতিহাস
জড়িত।
তার ছেলে ঢাকায় চলে যায়, কিন্তু বাপের জমি ছেড়ে
যাওয়া তার মনে কোনও স্থান খুঁজে পায় না। ত্যাগী
মা স্মৃতিকথার মাধ্যমে তার ছেলের মনে সেই গ্রামের
ঐতিহ্য জুড়ে দিতে চায়, কিন্তু সে তার মা কে বুঝ
তে পারে না। একদিন সে ঘরে ফিরে আসে এবং বলে, “আমার
জমি আমার মা বাঁচাবে না।” ত্যাগী মা তখন বুঝতে পা
রে যে সে তার মা কে বুঝতে পারে না।
স্মৃতিচারণার সময় একটি মূল নিয়ম ছিল: কোনও ব্যক্
তি তার ইতিহাস কাহিনি হিসাবে না বললে তার পরিবার ব
িচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এই নিয়ম বাস্তবে হারিয়ে যায
় যখন ছেলে তার মাকে বাড়ি ছেড়ে দেয়। ত্যাগী মা
সেই দিন থেকে কখনও স্মৃতিচারণা করে না, কিন্তু তার
মনে বিদ্রূপাত্মক একটি বিষয় জুড়ে যায়—তার ছেলে
তাকে কখনও বুঝতে পারে না।
গ্রামের পুরানো জমিদারি ঐতিহ্য যখন স্মৃতিকথার মাধ
্যমে কাহিনি হিসাবে জুড়ে যায়, তখন সে একটি সামাজ
িক বিষয় হয়ে উঠে, কিন্তু ত্যাগী মা তার ছেলে কে
বুঝতে পারে না। একদিন তার ছেলে মারা যায়, তার মা
তখন জানতে পারে যে সে কখনও তার মা কে বুঝতে পারে ন
ি। তার মৃত্যু সেই গ্রামের ঐতিহ্যকে আরও একটু বিদ্
রূপাত্মক করে তোলে, কিন্তু ত্যাগী মা তার ছেলে কে
বুঝতে পারে না।
সে তখন বুঝতে পারে যে তার ছেলে তার মাকে কখনও বুঝত
ে পারে না, কিন্তু তার মৃত্যু তাকে একটি বিদ্রূপাত
্মক মুহূর্তে নিয়ে আসে, যেখানে সে তার মা কে বুঝত
ে পারে না।


