ঢাকার একটি দুর্গম এলাকায় শাহাজালাল একটি ছোট ঘরে
বসে আছে। তার কাছে তার মায়ের পুরানো কাপড় ও একট
ি বুক রয়েছে—তার বাবার হারানো উত্তরাধিকার। তার প
িতার জমিদারি সম্পত্তি যে কোনও ভাবেই তার হাতে আসে
নি। সে নিজে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবক ছিল, কিন্তু
তার স্বপ্ন বাস্তব হয়নি।
তার মায়ের মৃত্যুর পর তিনি সেই সম্পত্তি পেতে মাম
ার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু মামা তাকে ঝুঁকিতে ফেলেছ
িল। তার হাতে থাকা কাগজপত্রগুলো সে খুঁজে পায়নি,
এবং তার পিতার জমিদারি সম্পত্তি এখন আর তার নয়। স
ে সেখান থেকে বাইরে চলে যায়, কিন্তু তার হৃদয়ে স
েই সম্পত্তি নিয়ে একটি ছায়া টেনে আসে।
তিন বছর পর সে ডাক পেয়ে ঘরে ফিরে আসে। তার মামা ম
ারা গেছে। তার মামার মৃত্যুর পর তার বাড়ির প্রতিব
েশী রাজু তার সেই সম্পত্তি কিনে নিয়েছে। সে সেখান
ে গিয়ে দেখে যে সেই সম্পত্তি নয় বরং একটি অপরিচি
ত নারী সেখানে বসে আছে। সে একজন বিধবা নারী, তার ন
াম শামিমা। তিনি সেই জমিদারি সম্পত্তি পেয়েছিলেন
কিছু প্রবাসী বন্ধু থেকে।
শাহাজালাল তাকে জিজ্ঞাসা করে কিন্তু সে কোনও উত্তর
দেয় না। তিনি শুধু তার চোখে তাকিয়ে রয়েছেন এবং
তার মুখে একটি মেলানকোলিক হাসি আছে। শাহাজালাল তা
র মায়ের কাছে পাওয়া কাপড়টি তার হাতে ধরে তাকে জ
িজ্ঞাসা করে কিন্তু সে কোনও কথা বলে না। সে শুধু ত
ার মুখে একটি চুম্বন দেয় এবং চলে যায়।
তখন শাহাজালাল বুঝতে পারে যে সে তার হারানো উত্তরা
ধিকার পেয়েছে কিন্তু এটি একটি নারীর আত্মত্যাগের
ফল। সে তার স্বপ্ন বাস্তব করে তোলে কিন্তু সে জানে
যে এটি তার জীবনের একটি আত্মত্যাগ ছিল।


