ঢাকার সমকালীন ব্যবসায়িক জগতে রূপা চৌধুরী সম্পত্
তি ও প্রভাবের দুই দিক থেকে সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠ
েছিল। তার বাড়ি সুন্দরবন এলাকার একটি জমিদারি ঘরে
র বংশধর, কিন্তু তার স্ত্রী কাজী আফরোজের পরিবার ছ
িল মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাঙালি পরিবার। তাদ
ের বিয়ে ছিল অনির্ধারিত — একটি পরিবার ভিত্তিক চু
ক্তি ছাড়া কোনও সাক্ষী বা প্রমাণ ছাড়া। তখন থেকে
রূপা কখনও আফরোজের সঙ্গে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে প
ারেনি।
তিন বছর পর রূপা বুঝতে পারে যে আফরোজ তার একটি গোপ
ন সন্তান রয়েছে — তার বড় বোন শামিমা যার বিয়ে ক
খনও হয়নি, কিন্তু তার সন্তান জন্মেছে। রূপা বুঝতে
পারে যে তার পরিবারে কেউ এ কথা তাকে জানায়নি। তি
নি বুঝতে পারেন যে এটি একটি রহস্য — একটি পরিবারের
মধ্যে যে কোনও গুপ্ত হাত কাজ করছে।
রূপা শামিমাকে খুঁজতে শুরু করে এবং তার পরিবারের প
্রতিটি কুঠুরায় ঢুকে পড়ে। তিনি আবিষ্কার করেন যে
শামিমা সত্যিই রূপার সন্তান নয়, বরং তার এক বন্ধ
ুর সন্তান — একজন প্রবাসী বাঙালি যিনি মুক্তিযুদ্ধ
ের সময় ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এ সব জানার পর
রূপা বুঝতে পারেন যে তার স্ত্রী এ সব কথা গোপন রেখ
েছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে রূপা কখনও তাকে বিশ্বা
স করবেন না।
রূপা আফরোজকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর তিনি শামিমা
র সাথে নিজেকে পুনরায় পরিচয় করিয়ে দেন। এবং এই
পরিবারের সব রহস্য এখন তার কাছে প্রকাশ হয়ে যায়।
রূপা বুঝতে পারেন যে তার জীবনে যা ঘটেছে তা কোনও
বাহ্যিক হাত দ্বারা নয় — বরং একটি বিশ্বাস ও আস্থ
ার অভাবে।


