ডিসেম্বরের এক বরফ ঢাকা শহরে, একটি অদৃশ্য দুর্গ উ
ঠে আসে—বাংলাদেশের পুরানো ধর্মীয় রহস্য ও আধুনিক
জাতীয় সংস্কারের মধ্যে একটি সংঘর্ষের কেন্দ্র হিস
েবে। সেখানে এক রহস্যময় পীর তার শিষ্যকে একটি মিথ
্যা সম্পত্তি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখায় যে কী দাম
একটি মাটির খন্ডের জন্য প্রকৃত মানুষের হাতে আসে।
পুরুষ নামে এক ব্যক্তি সেই সম্পত্তির মালিক হয়ে ও
ঠে, যার কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও চিহ্নিত হয়ন
ি। তার মাটি গ্রামের বাঙালি পরিবারের একটি নিম্ন শ
্রেণির বংশধরের হাতে ছিল। পুরুষ তাকে জানত না, কিন
্তু তার অজান্তে তার বাবামা ছিল সেই পরিবারের বংশধ
র।
এই রহস্যময় পীর তাকে একটি আধ্যাত্মিক সংস্কার দেখ
ায় যেখানে মাটির জন্য কোনো মূল্য নেই, কিন্তু মান
ুষের মনে রাখা থাকে। পুরুষ তার মাটি ছেড়ে দেয় এব
ং বাংলাদেশের প্রাচীন নদী গঙ্গার ধারে একটি সাধু ব
াসা বাঁধে।
এই সাধু জীবনের অর্থ খুঁজে পায় না, কিন্তু তার মন
ে একটি আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আসে। তিনি আবার তার পূ
র্বের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পারেন না, কারণ সেখ
ানে সম্পত্তি ছিল তার কাছে অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।
একটি কঠোর নিয়ম ছিল: যে মাটি ছেড়ে দেয়, তার জীব
ন আর ফিরে আসতে পারে না। পুরুষ তার জীবন ছেড়ে দেয
়, কিন্তু তার মনে একটি সংস্কার রয়ে যায়—আধুনিকত
া ও পরম্পরার মধ্যে তিনি কোনটি বেছে নেন তা নির্ণয
় করে না কিন্তু জানে যে তার মন তা কখনও বাদ দেয়
না।
এই কাল্পনিক জগতে, মাটি আর মানুষের মধ্যে একটি প্র
াচীন সংস্কার বাঁচে যেখানে আধুনিকতা একটি সংঘর্ষ ব
াড়িয়ে তোলে কিন্তু মানুষের মন সেই সংঘর্ষের মধ্য
ে আর একটি সংস্কার খুঁজে পায়।


