দুটি পরিবারের বাড়ি গোড়ায় গাছের ছায়ায় আটকে থ
াকে, কিন্তু তাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে কেউ নেই—শু
ধু এক চোখের দৃষ্টি নিঃশব্দে দেখে। পুরুষ বাবা সেই
চোখের মালিক, কিন্তু মৃত্যুর আগে সে নিজের পুত্রে
র নাম পুকুরের গভীরে লিখে রেখেছিল—যেখানে জল পানি
নয়, শুধু কথা আর স্মৃতি।
কাল্পনিক যুগে সময় একটা পাথরের মতো জমে যায়—প্রত
িটি দিন একই সূর্য দিয়ে শুরু, কিন্তু আর ফিরে আসে
না। মানুষ মানুষকে মনে রাখে না, কিন্তু মুখে মুখে
পাঠানো কথাগুলো হারিয়ে যায় না—তাই সময় একটা ধর
্মীয় অনুশাসনের মতো বাঁধা থাকে: প্রতিটি মুখ একটা
মন্দিরের মতো দাঁড়ায়, আর প্রতিটি প্রার্থনা আগু
নে পুড়ে যায়।
নিখোঁজ সন্তান হারিয়ে যাওয়ার পর দুটি পরিবার মুখ
োমুখি হয়, কিন্তু কেউ কাউকে চিনে না—শুধু একটি পা
নির বালতি আর একটি লাল মুখোশ মাথায় কেউ পুকুরের ধ
ারে হাঁটে। তারা জানে না, সে পানির ভিতরে এক বয়স্
ক কারাগারে রয়েছে, যেখানে মানুষ নিজেকে কোনো বাবা
মায়ের মুখে খুঁজে পায় না, কারণ সেখানে কেউ কাউকে
চিনে না।
ধর্মীয় বিভ্রান্তি শুরু হয় যখন পুরুষ বাবা তার প
ুত্রকে ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে খোঁজে—কিন্তু প
ুকুরের জল শুধু আরও গভীর হয়ে যায়, আর প্রতিটি প্
রার্থনা অন্য কাউকে পাওয়ার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়া
য়। এক রাতে, এক মুখোশ ধরে এক মুখ পানির উপরে উঠে
আসে—আর সে কাউকে চিনে না, কিন্তু তার হাতে একটি হা
রানো বালতি আছে।
রহস্যময় প্রক্রিয়াটা কাজ করে যখন মুখোশ খোলা হয়
—পানি আর মানুষের মধ্যে একটা দেওয়াল ভেঙে যায়। স
ে ছেলে মুখোশ পরে আসে, কিন্তু তার মুখ নেই—শুধু এক
টি আগুনের আভাস। তার পিছনে দুটি পরিবার একই রাতে আ
গুন জ্বালে—একটা জায়গা পানি হয়ে যায়, আর আরেকটা
আগুনে কালি হয়ে যায়।
সব শেষে পানির পুকুরের কেন্দ্রে একটি স্মৃতি উঠে আ
সে—নিখোঁজ সন্তানের ছবি সাদা কাগজে লেখা, কিন্তু ত
ার নাম নেই। মুখোশ ফেলে দেওয়া হয়, আর পানি পুরো
শুকিয়ে যায়—যেখানে কোনো স্মৃতি থাকে না, কেউ কাউ
কে চিনে না, কিন্তু প্রতিটি মুখ আগুনে জ্বলে।
এক অন্ধকারে মুক্তি এসে গেল—কিন্তু মুক্তির মানে ছ
িল কোনো মুখের কথা শুনা না, শুধু জায়গাটা শুকিয়ে
যাওয়া।


