ঢাকার একটি ছোট ঘরে বসে মামা শাহাবুদ্দিন মাঝরাতে
তার ছেলে ইমরানের মৃত্যুতে কাঁদছিলেন। তিনি জানতেন
, ইমরান তার নিজের মুক্তিযুদ্ধের ঋণের চাপে খুন হয
়েছে। তার মা ফাতিমা বছর দশেক ধরে তাদের পরিবারের
দৈন্য পুরো করেছিলেন, কিন্তু তার চোখে সেই দুঃখ কখ
নও চলে যায়নি।
বাড়ির পিছনে একটি পুরনো বাগানে তিনি একটি ভূত দেখ
েন — তার ছেলে ইমরানের ছবি সেখানে বারবার দেখা যায
়। ভূতটি তাকে একটি নোটবুক দেখায়, যেখানে তার পুর
ুষ পরিবারের সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের ঋণ রেকর্ড করা আছ
ে। ফাতিমা এটি পড়ে দেখেন, এবং তার হাত কাঁপতে থাক
ে। তিনি জানতেন যে তার ছেলে এই রেকর্ড থেকে বাঁচতে
পারেননি।
ভূতটি তাকে একটি পথ দেখায় — একটি মাটির বাড়ি, যে
খানে তার ছেলে বাঁচে এবং তার পুরুষ পরিবারের সমস্ত
ঋণ পরিশোধ করতে পারে। ফাতিমা এই বাড়িতে যান, কিন
্তু সেখানে তিনি একটি গোপন সত্য আবিষ্কার করেন — ত
ার ছেলে একটি বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের মুখ্য সৈন্য ছি
লেন, যিনি একজন বিদেশী প্রবাসী দ্বারা মারা হয়েছি
লেন।
ফাতিমা তার সৎ বন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গী মোহাম্
মদ মাসুদকে খুঁজে পান, যিনি তার ছেলে এবং পরিবারের
সমস্ত রহস্য উন্মোচন করেন। তিনি ফাতিমাকে জানান য
ে তার ছেলে তার পরিবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধে সত্যিক
ার আত্মত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু তার পরিবার তার জন্
য কোনো সম্মান করেনি।
ফাতিমা সেই মুহূর্তে বুঝতে পারেন যে তিনি কীভাবে ন
িজের পুরুষ পরিবারের সঙ্গে পারিবারিক নাটকে ভূমিকা
গ্রহণ করেছিলেন — কিন্তু এখন তিনি তার অন্ধকার অত
ীতের মানুষ হিসেবে বাঁচতে চান। তিনি তার ছেলে ইমরা
নের প্রতি আত্মত্যাগ করেন, এবং একটি ভূতের অতীতের
সাথে তার সম্পর্ক সমাপ্ত হয়।
ঢাকার এই ছোট ঘরে ফাতিমা তার জীবনের প্রতিটি পর্যা
য় পুনরায় বিচার করেন — এবং সেই বিচার তার পুরুষ
পরিবারের সাথে একটি নতুন সংগ্রাম আরম্ভ করে।


