ঢাকার একটি পুরান ঘরে শাশুড়ি মামুনা বেগম তার দুই

মেয়ে আর ছেলেকে স্নেহ দিয়ে বড় করেছেন। তাঁর ছে

লে মোস্তফা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সৈন্য হিসেবে

যোগদান করেছিল। যুদ্ধের সময় তিনি একটি প্রাচীন গ্

রামের পুরোহিতের বাড়িতে থাকতেন, যেখানে অতীতের ভূ

ত আজও ঘুরে বেড়ায়।

যুদ্ধ শেষে মোস্তফা ফিরে আসেন, কিন্তু তাঁর মনে অস

্থিরতা থেকে যায়। মামুনা বেগম তাঁর চিকিৎসা করতে

চান, কিন্তু তিনি শুধু মানসিক চিকিৎসা খুঁজছিলেন।

ঘরের কুঠার এবং পুরান কুঠুরি ঘরে ভূত দেখা যাচ্ছে।

মামুনা বেগম তাঁর শাশুড়ি বাড়ির একজন পুরোহিতের

কাছে যান এবং তাঁকে ঘরের ভূত দূর করতে বলেন।

পুরোহিত একটি প্রাচীন রীতি অনুসরণ করে ঘরটিকে পবিত

্র করে তোলেন। কিন্তু মোস্তফা এখন মুক্তিযুদ্ধের দ

িনগুলো পুনরায় দেখতে শুরু করেন — যেখানে তিনি পুর

োহিতের বাড়িতে নিহত সৈন্যদের শেষ আশ্রয় হিসেবে দ

েখেছিলেন। এটি তাঁর মনে একটি ঋণ রেখেছিল, যা মামুন

া বেগম বুঝতে পারেন।

ভূতের আতঙ্ক এবং মুক্তিযুদ্ধের ঋণ এখন ঘরের প্রতিট

ি কোণে বিস্তৃত হয়েছে। মামুনা বেগম তাঁর ছেলেকে জ

ানান যে তিনি এই ঘরে কখনো আর নিশ্চিন্ত থাকতে পারব

েন না যদি তিনি তাঁর মুক্তিযুদ্ধের দায় পরিত্রাণ

না করেন। মোস্তফা এটি বুঝতে পারেন এবং সেই রাতে ঘর

ের ভূত দূর করার জন্য সব কিছু করেন।

ঘরের ভূত আর দেখা যায় না। কিন্তু মোস্তফা এখন মুক

্তিযুদ্ধের দিনগুলো স্মরণ করে কোনও মনে স্থান খুঁজ

তে পারছেন না। মামুনা বেগম তাঁর কাছে বলেন যে তিনি

এখন মুক্তি পেয়েছেন — কিন্তু মোস্তফা জানেন যে ত

িনি কখনো পুরোপুরি স্বাস্থ্য ফিরে পাবেন না।

ঘরটি পুনরায় শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু মোস্তফা এখন

বুঝতে পারেন যে মুক্তিযুদ্ধের ঋণ কখনো মাফ হবে না

— এটি তাঁর মনের কোণে চিরতরে বসবাস করবে।