গাছের ডালে ঝুলে থাকা বাইরের আকাশের কালো রং গুটিয

়ে নেওয়া হয়েছে কাল্পনিক শহরের সময়ের প্রতীক। স

েখানে সময় বেগবান হয়ে পালটে গেছে: মানুষ যখন মার

া যায়, তার আত্মা নিজের ঘরে আটকে থাকে—স্বপ্নের স

ীমা ছাড়িয়ে সাক্ষী হয়ে থাকে কারো দুঃখদুঃখের মধ

্যে। শহরের বাড়িগুলো আর দেয়াল নয়—প্রতিটি দেয়া

ল একটি স্মৃতির বৈঠকখানা, যেখানে মৃতের কণ্ঠ ঘরে ঘ

রে ভাসে।

এক অন্ধকার বাড়িতে এক স্নেহময়ী শাশুড়ি তার কাঁদ

তে থাকা মেয়ের মাথা আঁচড়ে দেয়। মেয়ের বাবা মুক

্তিযুদ্ধে মারা যায়, মা অন্য এক শহরে কাজ করে থাক

ে—দু'বছর আগে কেউ ফেরেনি। স্নেহময়ী শাশুড়ি মেয়ে

কে কাঁদতে দেয় না। তার দু'হাতে চাপা দেয় একটি প্

রতিমা—মেয়ের মায়ের প্রতিকৃতি, যার মুখ কালো কাপড

়ে ঢাকা। মেয়ের মুখের পাশে একটি বাড়ির কাঠের বোত

াম গেঁথে দেয় তিনি—ভাবনা কাটা হয়ে গেছে তার মানু

ষ হওয়ার প্রতিজ্ঞা।

কিন্তু মাস পর এক রাতে বাড়ির কোণে আগুন জ্বলে উঠে

। আগুনের মধ্যে একটি মেয়ের ছায়া দাঁড়ায়—মাথায়

একটি কালো পাগড়ি, কাঁধে বাবার শাল। সে হাঁটে মায

়ের ছায়ার পাশে দাঁড়ানো প্রতিমার কাছে। প্রতিমা

মুখ খুলে একটি আওয়াজ কাটে—"আমি এখানে ছিলাম।"

স্নেহময়ী শাশুড়ি সেই রাতে ঘরের দেয়ালে হাত দিয়

ে টানে। দেয়াল ফেটে যায়—আর একটি বাচ্চা মেয়ে বে

রিয়ে আসে। তার মাথা সাদা কাপড়ে ঢাকা, হাতে একটি

কালো গুচ্ছ পানির বোতল। মেয়ে আগুনের মধ্যে হাঁটে

আর মায়ের ছায়ার পাশে দাঁড়ায়। সে বলে না—তার মু

খ খুলে যায়, একটি পানির বোতল ভাঙে, পানি জমিতে ছড

়িয়ে যায়। মাটি থেকে উঠে আসে একটি নাম লেখা পাতা

—"সামাজিক কলঙ্ক"।

আগুন নিভে যায়। বাড়ির দেয়াল মাটিতে গেঁথে যায়।

স্নেহময়ী শাশুড়ি দাঁড়ায় এক সুপ্ত বাড়ির সামন

ে—যেখানে এক সময় এক মেয়ে কাঁদত, আর আজ এক ছায়া

সেই কাঁার মুখ খুলে দেয়। শহরের কালো আকাশ হালকা হ

য়ে যায়—কারণ একটি মেয়ে তার নাম ফিরে পেয়েছে।

এই বাড়িতে এখন আর কোনো আত্মা নেই। কেবল একটি ছায়

া যে নিজের কথা বলেছে।