তেহেরা গ্রামের নাম ছিল সোহেল হোসেনের ঘরে। তিনি ত
খন ঢাকার একটি পুরানো বাড়িতে থাকতেন, যেখানে তার
মা জমিদার কালীপুরের বাগান থেকে খুঁজে বার করেছিলে
ন তাঁর প্রথম বউয়ের চুল। তার স্ত্রী মানিকা ছিল ব
াংলাদেশের প্রবাসী বউ— মালয়েশিয়া থেকে এসে বিয়ে
করেছিল। তার পিতা ছিল ইসলামী ধর্মীয় পিরের শিষ্য
, যার নির্দেশে সে কখনও সাংস্কৃতিক সংস্কার বা ভাষ
া আন্দোলন সমর্থন করেনি।
গ্রামে মানিকার আগমন সঙ্গীতের মতো সুর নিয়ে এসেছি
ল, কিন্তু বাড়িতে সে একটি অপরিচিত জলে ভাসতে শুরু
করেছিল। সোহেল হোসেনের বোন তার কাছে সাহায্য করতে
চেয়েছিল, কিন্তু তার স্বামী ছিল কালীপুরের এক স্
থানীয় জমিদারের বৈরী। মানিকা জানত এই গোপন সংঘর্ষ
কখনও কাউকে বলতে পারবে না।
এক রাতে বাড়িতে বাতাসে ভূতের আওয়াজ শুনা গেল। এট
ি ছিল সোহেল হোসেনের মায়ের ভূত, যিনি কখনও জমিদার
কালীপুরের হাত থেকে পালাতে পারেননি। ভূতটি বাড়িত
ে ক্রুদ্ধ ছিল, কারণ সোহেল হোসেন তাঁর মায়ের কথা
বলতে চায়নি, বা তাঁর প্রথম বউয়ের চুল দেখতে চায়
নি।
মানিকা একদিন জমিদার কালীপুরের বাগানে পা বাড়িয়ে
ছিল, যেখানে তার কাছে একটি অপরিচিত প্রেম শুরু হয়
েছিল— সে জমিদারের ছেলে আফতাব মুস্তাফিজের সাথে প্
রেমে পড়েছিল। এটি ছিল একটি গোপন রোমাঞ্চকর সম্পর্
ক, যা মানিকার জীবনের অন্যতম বড় দ্বন্দ্ব হয়ে উঠ
েছিল।
ভূতটি এই গোপন সম্পর্ক বার করে বাড়িতে আসে, আর সো
হেল হোসেন তার বউকে বাড়ি থেকে বাইরে করার চেষ্টা
করেছিল। মানিকা জানত যে তার প্রেম কখনও সোহেল হোসে
নের কাছে বলতে পারবে না, কিন্তু সে বাড়িতে থাকতে
পারবে না।
একদিন ভূতটি মানিকার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাকে কা
লীপুরের বাগানে ফিরে যেতে বলে। সে কখনও জানত না যে
সে কখনও জমিদারের বাগানে যেতে পারবে না, কারণ তার
স্বামী তাকে সেখানে যেতে দেয় না। কিন্তু ভূতটি ত
ার সাথে একটি চুক্তি করেছিল— তার প্রেমের বিষয়টি
খুলে বলতে হবে, নতুনা তার জীবন থেকে বাদ দেয়া হবে
।
অবশেষে মানিকা সে চুক্তি পূরণ করেছিল, এবং তার স্ব
ামী সোহেল হোসেন তার কাছে ক্ষমা চায়। কিন্তু ভূতট
ি কখনও ক্ষমা করেনি, এবং সে সোহেল হোসেনকে মৃত্যু
দেয়। মানিকা এখন একা আছে বাড়িতে, কিন্তু তার প্র
েম আর ভূতটি তার জীবনকে বদলে দিয়েছে।


