গ্রামের দু’দিকে বালুচর বালির মধ্যে খামার ছাড়া ক

িছু নেই। এক গরম রাতে কৃষক রামেশ ঘাটে চাইতে গিয়ে

ডুবে মারা যায়, সে আগে কালে মারা যাওয়ার কথা না

হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী সুমনা তার পুরনো ফাইল খুঁজ

ে পায় — কোনো কাগজে লেখা নেই, কিন্তু তার পিতা সে

ই জমির মালিকানা আবেদন করেছিল মুক্তিযুদ্ধের আগে,

আর সেই আবেদন আদালতে ঢালাও হয়ে গিয়েছিল।

আইন এখন একটা মেশিনে পরিণত হয়েছে: কোনো মালিকানা

প্রমাণ না থাকলে মালিকানা অপ্রমাণিত হয়ে যায়। আর

যদি মালিক মারা যায় আর পরিবারের কেউ প্রমাণ দিতে

না পারে, তবে জমি রাজ্যের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুমনা জানে এটা তার জমি না হলে এই আইন কেউ ভাঙে ন

া।

তার ছেলে দু’টি কাঁচা বয়সে, তারা স্কুলে যায় না,

কারণ জমির জন্য পাঠশালের কাগজ লাগে না। সুমনা বাড

়ির ছাদে চাষ করে পানি পানি চাষ করে, কিন্তু জমির

নামে আসা লেটার এগিয়ে আসে। আইন আদালতে চলে যায় —

একটা আদালতের বিচার করে যায়, কিন্তু কাউকে কোনো

সাক্ষী দেখানো হয় না। সুমনা বাড়ি ছাড়া আর কিছু

নেই।

সে কুমোর মৌজা থেকে সাক্ষ্য চায় — এক বৃদ্ধ পিরের

দাতা লেখা কাগজ আছে, যেখানে মালিকানা বিষয়ে কথা

হয়েছিল। আদালতে যাওয়ার আগে তার ছেলে দু’টি বাড়ি

র পাশে এক গাছের নিচে লুকিয়ে থাকে, আর একটা বালির

বোতাম নিয়ে আসে যা পিতার হাতে ছিল। সেটা আদালতে

জমা দেওয়া হয়।

কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্ত আসে: আইন অনুযায়ী, সাক্

ষ্য না থাকলে মালিকানা হারিয়ে যায়। সুমনা জমি হা

রায়, আর আদালত তাকে জানিয়ে দেয়, এখন সে জমির কা

ছে কোনো কথা বলবে না।

রাতে সুমনা জমির মাঝখানে একটা নীল বালির খাঁড়া খু

ঁজে পায় — পিতার হাতে সেটা দেখেছিল, আর এখন এটা ত

ার হাতে আছে। সে তার ছেলেদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে যা

য়, কিন্তু তার পিছনে জমির নামে আরেকটা লেটার আসে

— এবার সে কাউকে জানায় না, কারণ সে জানে, আইন এখন

তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে, আর সে এখন এটার সামন

ে দাঁড়াতে পারে।

বিধবা নারীর সংগ্রাম এখন শুরু হয়নি — এটা শেষ হয়

ে গেছে। কিন্তু তার ছেলেরা এখন জানে যে, আইন মানুষ

ের বাড়িকে না বাড়ি হয়ে যায়, যদি মানুষ জানে কো

থায় তার বাড়ি ছিল।