তিন দিন আগে রাতে শিল্পীপুর গ্রামে মহাপ্রলয়ের আগ
ুন জ্বলে উঠেছিল। প্রথমে চর ঘোষার মধ্যে একটি পীরে
র মূর্তি দাহ হয়ে যায়—পীরের কেরামতি বলে গ্রামবা
সী তাকে বুঝে নেয় না যে তার ভূত মাটি থেকে উঠেছে।
রাখাল রায় তখন ঢাকায় কাজ করছিল, তার স্ত্রী ফরি
দা তাকে দুই বছর আগে ছেড়ে গেছে বলে তার সাথে কোনও
যোগাযোগ ছিল না। তিনি সেই দিন থেকে পীরের ছায়া থ
েকে আশা করছিলেন যে তিনি ফিরে আসবেন।
মহাপ্রলয় আগুন সমস্ত গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। ফরিদা
একটি বৃক্ষের নীচে গুড়ি দিয়ে কাটছিলেন, আর তাঁর
কাছে পীরের একটি ছোট মূর্তি রাখা ছিল। এক ঝাপটা প
ানি এসে তাঁর কাছে পৌঁছায়, পানি থেকে একটি ছবি উঠ
ে আসে—ফরিদা দেখে রাখালের চেহারা। তিনি তখন সেই ছব
িটি মূর্তির কাছে রাখেন এবং নদীর ধারে বসে আছেন।
রাতে নদীর জল আরও উঠে যায়, এবং পীরের মূর্তি নীচে
পড়ে যায়। ফরিদা দেখে যে তার স্বামী তাঁর কাছে আ
সছেন পীরের কেরামতির মধ্যে ডুবে গিয়ে। তিনি সেই দ
ৃশ্যটি দেখে তাঁর জীবনের প্রথম বার নস্টালজিক আনন্
দ অনুভব করেন। মহাপ্রলয় গ্রামটিকে জ্বালিয়ে দেয়
, কিন্তু ফরিদার হৃদয় পীরের ছায়ায় বাঁচে। তিনি
আর বিধবা নন—আজ তিনি সংগ্রামের মধ্যে বাঁচেন।


