দুই দশক ধরে ঢাকার একটি ছোট বাড়িতে খালেদা কাজ কর
ছিলেন তাঁর ছেলে ইফতারের সাথে সংসার চালানোর জন্য।
তিনি বাড়িতে ভাত রান্না করতেন, ছেলের বাজারের চা
ল নিয়ে আসতেন এবং রাতে সে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্
ষা করতেন। তবে একদিন তিনি একটি চাল গুপ্ত চুরি করা
হওয়ার খবর পেলেন — যা তাঁর ছেলে করেছিল বলে তিনি
জানতেন।
খালেদা তখন মাটির টানে অনুভব করতে শুরু করলেন তাঁর
জীবনের ক্ষতি। তিনি সেই চাল সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছে
ড়ে পাড়ার পাশে একটি পুরনো চরে গেলেন, যেখানে মহা
প্রলয়ের সময় জল উঠেছিল এবং তার মাটি আজও মানুষের
হাতে নেই। সেখানে তিনি একটি পুরানো মৃত মাটি খুঁজ
ে পেলেন — যার মধ্যে তাঁর ছেলে করা চুরির চালটি লু
কানো ছিল।
তিনি সে চালটি নিয়ে ঘুরে আসার পথে পাড়ার এক পুরন
ো মানুষ মুহম্মদ আলীর কাছে গেলেন, যিনি মহাপ্রলয়ে
র সময় সেই চরের মাটি থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছিলেন।
তিনি সে চালটি খুঁজে বার করে দিলেন এবং তার মধ্যে
একটি পুরনো লেখা খুঁজে পেলেন — যেটি তাঁর ছেলে ইফত
ার লিখেছিল: “আমি বাবা মাকে বাঁচাবো না, আমার প্রব
াসে বিশ্বাসঘাতকতা করতে হবে।”
খালেদা তখন একটি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলেন — তিনি
মহাপ্রলয়ের জোরে মাটির টানে তাঁর ছেলের চুরি চালট
ি সঙ্গে নিয়ে সেই চরে ফিরে গেলেন। তিনি সে মাটিতে
একটি পুরনো মৃত মাটি খুঁজে পেলেন এবং সেখানে তাঁর
ছেলে লিখা চালটি নিয়ে তাঁর হাতে পরিণত হলো একটি
অস্থায়ী সত্য।
খালেদা তখন মাটির টানে প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত
নিলেন — তাঁর ছেলে যে চুরি করেছিল সেই চালটি সেই ম
াটিতে পুনরায় দেওয়া হলো, যাতে সে কখনও আবার সেই
মাটি থেকে কিছু লুকিয়ে রাখতে না পারে। এই মুহূর্ত
ে খালেদা তাঁর জীবনের সব সংসার ছেড়ে মাটির টানে আ
বেগঘন প্রতিশোধ নিলেন।


