ঢাকার একটি অপরিচিত বাড়িতে হামিদা শেখ জীবনের সবক

িছু হারিয়ে ফেলেছিল। তার স্বামী খালেদ বাংলাদেশের

মুক্তিযুদ্ধে পড়ে গিয়েছিল। তার ছেলে শাহাদাত তখ

ন আট বছর বয়সে জন্মগ্রহণ করেছিল। স্বামীর মৃত্যুর

পর হামিদা তার মাবৌ হয়ে বাড়িতে থাকে এবং শাহাদা

তকে পড়ায় দেয়।

মহাপ্রলয়ের আগে বাংলাদেশ আর তেমন ছিল না। পৃথিবী

স্থান পরিবর্তন করেছিল—ভূত্ব ও ভূচ্ছেদ সবকিছু ভেঙ

ে ফেলেছিল। শহরগুলো সমুদ্রের কাছে ঝুঁকে পড়েছিল,

নদীগুলো বদলে গেছে। মানুষ বাঁচতে চেয়ে নতুন নিয়ম

বানায়। কিন্তু হামিদার কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃত

ি ছিল অস্পষ্ট, শুধু মাতৃত্ব ও কষ্টের কথা ছাড়া ক

িছু নয়।

শাহাদাত মাঠে নামে কিছু বাঁচানোর চেষ্টা করে। সে ম

াঠের এক অংশ ক্রয় করে আর একটি বিদ্রূপাত্মক গোপন

উদ্যোগ চালায়—একটি বৈরী সামাজিক বয়কট চালিয়ে যা

য় যেখানে পুরানো রাজনৈতিক পরিবার ও তাদের পরিবার

বাইরে থেকে চাপ দেয়। হামিদা এই বয়কটে নিজের পরিব

ার সম্পর্কে সত্য বার করে দেখে। তার স্বামী ছিল কো

নও কিছু আর নয়, একটি বিষয় ছিল যা মুক্তিযুদ্ধের

স্মৃতি হিসাবে সে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল।

শাহাদাত বয়কট চালায় এবং মহাপ্রলয়ের বাতাসে তার

পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তোলে। হামিদা জীব

নে যা হারিয়েছিল, সেটা ফিরে পায় এবং তার সামনে এ

কটি নতুন জীবন বানায় যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

সে নিজেকে জীবনে পুনরুজ্জীবিত করে।

একটি নতুন নিয়ম তৈরি হয়েছিল—বাংলাদেশে মহাপ্রলয়

হওয়ার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কোনও বাঁচা

বাঁচার উপায় নয়, এটা হলো একটি জীবনের বাইরে কাজ

করা সম্ভব কিছু। হামিদা এই নতুন বিষয়টি বুঝতে পার

ে এবং তার জীবনে একটি নতুন পরিবর্তন আসে।