বাংলাদেশের উত্তরণকালের একটি বিপুল ব্যবসায়ী জাহা
ঙ্গীর কারখানা চালায় ঢাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবার
ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। তার বিয়ে ছিল তার বাবার চাই
তে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কন্যা রূপমতী সাথে
— যার বিয়ে একটি সামাজিক সুযোগ হিসেবে ঘটেছিল। জা
হাঙ্গীর এই বিয়ে থেকে কোনও আনন্দ পায় না, বরং শহ
ুরে একাকীত্ব অনুভব করে কারখানার কাজে বিষণ্ণ মনে
ব্যস্ত থাকে।
একদিন তার বাড়িতে একটি গোপন বার্তা পৌঁছায় — তার
স্ত্রী রূপমতী তার পুরানো প্রবাসী প্রেমিকের সাথে
যুক্ত হয়েছে এবং তাদের বিয়ে ভাঙার ষড়যন্ত্র চল
ছে। জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীর সাথে কথা বলে এ কথা খুল
ে বলার চেষ্টা করে কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। তখন
জাহাঙ্গীর তার পরিবারের একজন পুরানো সহপাঠী ফারুক
থেকে একটি ধোঁয়া বার্তা পায় — তার স্ত্রী সেই প
্রবাসী প্রেমিক কাছাকাছি আছে।
উত্তরণকালের সামাজিক নিয়ম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
জাহাঙ্গীরের মনকে অস্থির করে তোলে। সে বিয়ে ভাঙা
র ষড়যন্ত্র ঘটানোর জন্য তার বাবার সাথে কথা বলে ক
িন্তু তিনি এ ব্যাপারে তার মত দেন না। জাহাঙ্গীর এ
খন স্বামীস্ত্রী সম্পর্কের মধ্যে অস্থিরতা ও বিষণ্
ণতা অনুভব করে। তার শহুরে একাকীত্ব এখন একটি সম্পূ
র্ণ সামাজিক বিষয় হয়ে উঠেছে এবং তার মন কখনও আগে
র মত স্থায়ী হয়নি।
তখন জাহাঙ্গীর একটি প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে চুপ
চাপ প্রবেশ করে এবং তার স্ত্রী রূপমতীকে অপহরণ করে
। সে তার বাড়িতে ফিরে এসে তার স্ত্রীকে বাধ্য করে
বিয়ে ভাঙার ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করতে এবং তাদ
ের সম্পর্ক বৈধ করে তোলে। জাহাঙ্গীর এখন একটি নতুন
শহুরে জীবনের প্রস্তুতি করছে — যেখানে তার বিষণ্ণ
তা এবং একাকীত্ব আরও গভীর হয়ে গেছে।


