1971এর মুক্তিযুদ্ধের পর উত্তরণকালে ঢাকার শহরটি ছ
িল একটি অস্থির স্থান — সেখানে বাঙালি মানুষের মন
ভাঙা হয়েছিল অতীতের দুঃখ ও বর্তমানের আশা দ্বারা।
সেই সময়ে মুর্শিদাবাদের একটি জমিদার পরিবারের কন
্যা রানু শহরে চলে আসে এক প্রবাসী প্রেমের সঙ্গে।
তার পিতা ছিলেন একজন অভিশপ্ত জমিদার — তাঁর নাম ছি
ল মোহাম্মদ আলী খান, যিনি ১৯৪৭এর বিভাজনের পর নিজে
র জমি হারিয়েছিলেন এবং তার সাথে সাথে তাঁর নামও অ
পমানিত হয়েছিল।
রানু শহরে চলে আসার পর তার বাবা থেকে কোনো খবর আসে
না — তার মায়ের মৃত্যু ঘটে এবং তার বাড়ি পরিবার
দ্বারা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সে তখন একটি গোপন রাজ
নৈতিক দলের সাথে জড়িত হয় যারা জমিদারি ব্যবস্থাক
ে ধ্বংস করতে চায়। রানু তাদের একজন কর্মী হিসেবে
কাজ করে, কিন্তু তার অতীতের সাথে তার বর্তমান মোতা
বেক নয়।
রানু শহরের একটি অস্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কাজ করে
— সে একটি মার্কেটে রান্না করে এবং তার সময় ব্যয
় করে শহরের গলিগলিতে। কিন্তু একদিন সে তার পিতার
কথা শুনতে পায় — তিনি এখন বাংলাদেশের একটি গ্রামে
বাস করছেন, যেখানে তিনি কৃষি করে আয় করছেন। রানু
তার বাবার দিকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্
তু তার মনে সংঘর্ষ হচ্ছে — সে জানে যে তার পিতা আর
সে দুজনে একে অপরের সাথে মিশতে পারবে না।
রানু গ্রামে চলে আসে এবং তার পিতার সাথে একটি শহরে
গ্রাম্য মেয়ে হিসেবে তার সম্পর্ক বুঝতে চেয়ে দে
খে যে তার মানুষ আর সে দুজনে কখনো মিশতে পারবে না।
এই সংঘর্ষ তার হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে এবং সে তার জ
ীবনে একটি রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে মুখোমুখি হয়।
শেষ পর্যন্ত রানু বুঝতে পারে যে তার পিতা আর সে দু
জনে একই দেশের নাগরিক হওয়ার পরেও তাদের মধ্যে বিভ
াজন থাকবে কারণ তাদের পরিবারের ইতিহাস আলাদা।
রানু তার পিতাকে বলে যে সে এখন আর কোনোদিন ফিরে আস
বে না — সে এখন একজন শহরের মেয়ে হয়ে গেছে। এই সি
দ্ধান্ত তার জীবনের একটি মূল্যবান পরিবর্তন হয়ে ও
ঠে এবং সে তার জীবনে আর কোনো সংঘর্ষ খুঁজে পায় না
।


