শিক্ষার ক্ষেত্রে সংকট এবং বেকারত্বের চাপে ঢাকার

একটি পরিবার খুব নিকটে থেকে ভাঙে। মায়ের কাছে একট

ি স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া ছেলে বাংলাদেশে কোনও কাজ প

ায় না, কারণ উত্তরণকালের অর্থনৈতিক পরিবর্তনে শিক

্ষিত কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য জায়গা কমে যায়। তার

বোন বিয়ে করে ঢাকার একটি বিলাসবহুল বাড়িতে চলে

যায়, কিন্তু তার স্বামী বিদেশে কাজ করে এবং ঘরে অ

র্থ পাঠায় না — তার পরিবারের প্রতি তার আস্থা হার

িয়ে যায়।

একদিন একজন রহস্যময় আগন্তুক তাদের বাড়িতে ঢুকে প

ড়ে। তিনি কোনও কাজ করেন না, কিন্তু তার মুখে আছে

একটি মৃত্যুর ঘটনা — যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের

সঙ্গে জড়িত। মায়ের মনে হয় তিনি তার পুরানো বন্ধ

ু আবু হানিফ যিনি যুদ্ধে বীর হয়েছিলেন কিন্তু তার

পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন নি। তিনি বলেন

যে তিনি একটি চিঠি পেয়েছেন যা তার মায়ের নামে ল

েখা — এটি তার ভাই বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ হিসেবে আ

সে।

বোন বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মায়ের কাছে আপত্তি জানায

়, কিন্তু মা তাকে কোনও কথা বলতে দেয় না — তিনি জ

ানেন যে ভাই তার স্বামীকে কখনও সত্য বলেনি, আর এই

রহস্যময় আগন্তুক তার মৃত্যুর কারণ জানাতে আসে। আব

ু হানিফ মৃত হয়ে গেছেন, কিন্তু তার চিঠি বুঝায় য

ে তিনি বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে পড়ে গেছেন এবং তার ভ

াই তাকে বাঁচাতে পারেনি।

এই চিঠি বোনের বিশ্বাসঘাতকতার মূল প্রমাণ হয়ে ওঠে

, কারণ তার স্বামী তাকে বাংলাদেশে ছেড়ে দিয়েছিল

এবং সে সম্পর্কে কখনও সত্য বলেনি। মা আবু হানিফের

সাথে তার ভাইয়ের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন কিন্

তু কোনও সংক্ষিপ্ত উত্তর পান না। এই জ্ঞান তার মনে

একটি বিষণ্ণ চাপ তৈরি করে — তিনি জানেন যে উত্তরণ

কালের জন্য তার পরিবারের অতীত কখনও পুনরুদ্ধার করা

যাবে না।

আবু হানিফের চিঠি নিয়ে মা একটি প্রবাসী প্রেমের গ

ল্প লেখেন যেখানে ভাইয়ের বিশ্বাসঘাতকতা এবং শিক্ষ

া ও বেকারত্বের চাপ একসাথে মিশে যায়। এই গল্প বিষ

ণ্ণ হয়ে থাকে, কারণ তা একটি পরিবারের ভাগ্যের পরি

বর্তন নিয়ে কথা বলে না — তা তাদের ভাগ্যের ধ্বংস

নিয়ে কথা বলে।