ঢাকার আলীপুর এলাকায় বাড়ি ভাঙা একটি বৈঠকখানায়

রোহিনী তার কাছে রাখা মোটা নোটবইয়ের সাথে বসে থাক

ে। সে একজন নিঃসন্তান গৃহবধূ, তার স্বামী মুক্তিযু

দ্ধে নিহত হয়েছিলেন। তার পর তার বাবামার মৃত্যু ঘ

টে এবং তিনি তার ছোট বোনের সাথে বাড়িতে থাকেন। রো

হিনী বাড়ির জমি কাটাকাটি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কা

রণে বিধবা মহিলাদের দুর্দশা দেখে ক্ষুব্ধ হন। তিনি

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং ছাত্

রদের মধ্যে বেকারত্ব এবং শিক্ষার অভাব নিয়ে আলোচন

া করেন।

একদিন তিনি বাইরে ফিরে আসার সময় তার প্রাক্তন ছাত

্র শাহাদের সাথে দেখা হয়। তিনি একজন বিদেশে চলে গ

েছে এবং তার জীবন তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে

অস্থির হয়ে পড়ে। তার মাঝে একটি নিষিদ্ধ প্রেম গড

়ে ওঠে, যেখানে রোহিনী শাহাদের সাথে প্রেমে পড়ে য

ান। তার পরিবার এ বিষয়ে বিরক্ত হয় এবং তাকে অপরা

ধী মনে করে। তার বোন তাকে বাড়ি থেকে বাইরে করে দে

য়।

শাহাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার সময় তিনি রোহিনীকে এ

কটি বাড়ি কিনে দেন যেখানে তারা সামাজিক বিধিবিধান

ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা ক

রেন। কিন্তু রোহিনী তার পরিবার এবং শিক্ষার দায়িত

্ব পালন করার জন্য প্রতিবাদ করেন। শাহাদের পরিবার

তার জন্য নিন্দা করে এবং তার প্রেম বিষয়টি নিয়ে

বিতর্ক ঘটে। শেষ পর্যন্ত রোহিনী তার প্রেমকে বাদ দ

িয়ে শিক্ষা ও শোষণ বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন যেখান

ে বেকার ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হয় এবং তারা প্রা

থমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার সুযোগ পায়।

উত্তরণকালের সামাজিক সংকট এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃত

ি এই প্রেম ও শিক্ষার সংঘাতে পরিণত হয়। রোহিনী তা

র প্রেমকে ত্যাগ করে শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করেন এব

ং তার জীবনে একটি মেলানকোলিক সমাপ্তি ঘটে।