গ্রামটি পুরো সামাজিক নির্মাণ বদলে ফেলেছে: 1952এর
ভাষা আন্দোলনের পর থেকে একটা নির্দিষ্ট ভাষার কথা
বলা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, যে কোনো বাক্যে পুরানো সা
হিত্যের শব্দ মানুষের মুখে পড়লে তাকে পুরো পাড়ার
বিশ্বাস হারাতে হয়। এই নিয়ম প্রতিদিন মানুষের ম
াথার ওপর ঝুলছে, আর একজন গ্রাম্য মাতব্বর যে একদিন
বাড়ির বাইরে নামতে পারবে না যদি তার কথা বাড়ানো
হয়।
সেই গ্রামের এক বিধবা নারী রুক্সানা তার দুই পুত্র
ের মধ্যে একজনের চুরি হওয়া জমির কাগজ খুঁজছে। মাস
ের শেষে তার পুত্র একটা মামলায় পার্টিশনের আগে বা
ড়ির মালিকানা নিয়ে বাদ পড়ে। জমি আজ নদীর চরে এক
টা অনিশ্চিত সীমার ভিতরে, যেখানে কোনো মাপ নেই, কো
নো কাগজ নেই, শুধু পানি আর আকাশ। সেই সীমার ভেতরে
কেউ যদি নাম বলে, তাকে সামাজিক কলঙ্কের ভার পড়ে।
আগে পুত্রটি মাতব্বরের পুত্র হিসেবে গ্রামে বাস কর
ে, কিন্তু এখন সে নিজের নাম নিয়ে কথা বলে না। রুক
্সানা রাতে তার মাথায় একটা লাল কাপড় জড়িয়ে দেয
়, যেটা মাতব্বরের পুত্রদের জন্য নিষিদ্ধ। রাতে সে
একটা ভাঙা বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখে একটা কাগজ আগুন
ে পোড়ানো হয়েছে—যার মানে একটা জমির মালিকানা কেউ
বাদ দিয়েছে। কাগজের কালো ছাপে একটা নাম ছিল: তার
পুত্রের নাম।
সে একটা বালতি নিয়ে নদীর চরে ঘুরে আসে, যেখানে এক
টা ভুয়া বাড়ির দরজা আছে। কেউ তাকে বলে না কেন সে
এখানে আসছে, কিন্তু সে জানে এই কাগজের আগুনে সে প
াওয়া কাগজ নিজের পুত্রের নামে লেখা হয়েছিল—যেটা
এখন কেউ পড়ে না। একটা মানুষের নাম মুছে ফেলা হয়ে
ছে, কিন্তু এটা সামাজিক কলঙ্ক হয়ে গেছে না—এটা এক
টা অনুশোচনা হয়ে গেছে।
পুত্রের স্থানে সে একটা বাক্স খুঁজে পায়—যার ভেতর
ে আগুনে পোড়া কাগজ ছাড়া কিছু নেই। কিন্তু সে তার
হাতে একটা নাম লেখা কাগজ পায় যা মাতব্বরের হাতে
দেয়া হয়েছিল—“এটা চুরি করা হয়েছিল, কিন্তু এটা
আমার নামে নেই।”
রুক্সানা বাড়ি ফিরে রাতের আকাশে তার পুত্রের নাম
উঠিয়ে দেয়। সে আর কেউ বলে না যে সে চুরি করেছে,
কিন্তু গ্রামের অন্ধকারে কেউ তার নাম পড়ে না। সেই
রাতে একটা বাতাস আসে, যা আগে কখনো পাওয়া যায়নি—
একটা ভুতের উপন্যাসের মতো আবহাওয়া হয়ে যায়। রুক
্সানা জানে, সে এখন সামাজিক কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে
গেছে—কিন্তু কেউ তাকে মুক্ত করেনি। সে একা আর একট
া নাম নিয়ে বাস করছে, যা সামাজিক মানের ভেতরে নাম
নেয়নি।
এই গ্রামে এখন কেউ কাউকে চোর বলে না। কিন্তু কেউ য
দি নাম বলে, তাকে রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার
ভয় পায়।


