১৯৮০এর দশকের শেষের দিকে ঢাকা থেকে একজন প্রবাসী চ

াকরির জন্য গোপালগঞ্জের একটি ছোট গ্রামে আসে। তার

নাম রহমান। তার পরিবারের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ ছ

িল না, তবু সে অপরিচিত একটি ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তার

কাছে একটি পুরানো বাড়ি দেখা যায় যার দেয়ালে খো

দাই করা হয়েছে সংস্কৃত দেবদেবীর নাম। এই বাড়ি এক

জন রহস্যময় পীরের ছিল, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় আ

ত্মহত্যা করেছিলেন এবং তার পর থেকে সে বাড়ি বাস ক

রে না।

রহমান বাড়িটি ভাড়া করে নেয়ার পর রাতে তার ঘুম ভ

াঙে। তার ঘুম থেকে উঠে দেখে একটি ছায়া ঘরে ঘুরছে।

তার বাবা যখন ছিলেন, তখন তিনি কখনও সে ঘরে ঢুকতেন

না এবং সে ঘরে থাকার জন্য কোনও বাড়িতে থাকতেন না

। রহমান কৌতূহল নিয়ে তার সাথে কথা বলতে চায় কিন্

তু তার সামনে কিছু দেখা যায় না। সে একজন প্রবাসী

এবং এই বাড়ির কোনও ইতিহাস তার জানা ছিল না।

একদিন রহমান তার পুরানো বাড়িতে স্নান করতে যায়।

স্নানকক্ষে তার চোখে একটি ছবি দেখা যায় — একজন পী

র যিনি তার হাতে একটি লোহার বাটি দিয়েছিলেন। তার

বাবা কখনও তাকে বলেন নি যে এই বাটি কোথা থেকে আসে।

রহমান তখন বুঝতে পারে যে এই বাটি সেই পীরের বস্তু

এবং সে বাটি নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

আর একদিন সে তার ঘরে ফিরে আসে এবং তার পাশে বসে থা

কা ছায়াটি এখন স্পষ্ট দেখা যায় — সে একজন পীর ছি

ল। রহমান তাকে জিজ্ঞাসা করে কে সে এবং সে কেন এখান

ে আছে। পীর বলেন যে সে এখানে আসার কারণ হল রহমান ত

ার বাটি নিয়ে গেছে এবং সে বাটি ছাড়া এখানে থাকতে

পারে না।

রহমান তার বাটি ফিরিয়ে দেয়। পীর তাকে বলেন যে সে

এখন এই বাড়িতে থাকতে পারবে না, কারণ সে এখন আর এ

খানে থাকতে পারবে না। রহমান বাড়ি ছেড়ে চলে যায়

এবং তার পর থেকে কখনও আবার ফিরে আসে না। তার ঘরে আ

বার নীরবতা ফিরে আসে, কিন্তু এবার সেখানে কোনও ছায

়া দেখা যায় না।