বাঙালি গ্রামের একটি পুরানো পুষ্করিণীর পানি এখন শ

ুষ্ক হয়ে গেছে। মাটির নীচে দুই হাজার বছরের একটি

পুরাতন ভূতের মূর্তি থেকে একটি ছাত্রনেতা তার বাড়

ি খুঁজে পায় না, কারণ তার পরিবার দীর্ঘ দুই শতাব্

দী ধরে এই ভূতকে স্থানান্তর করে রেখেছিল।

তার নাম ছিল রফিক। প্রাচীন একটি কুলীন পরিবারের ছে

লে ছিল সে, যাদের মূল ঐতিহ্য ছিল সমাজ ও পরিবারের

মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখা। তবে এই পরিবারের সদস্যর

া একটি রহস্য বাদ দিয়েছিল — তাদের বাড়ি খুঁজে পা

ওয়া যাবে না যতক্ষণ না তার মৃত পূর্বপুরুষের মূর্

তি বাইরে আনা হয়।

রফিক তার প্রথম বিদ্যালয়ের সময় থেকে পরিবারের মূ

ল গ্রামে ফিরে আসতে চাইত। তার বাবা তাকে বলেছিল, “

আমাদের বাড়ি বাইরে আছে। কিন্তু এটা বাইরে নয় — এ

টা আমাদের মনে আছে।”

তার বাবা মারা যাওয়ার পর রফিক সেই পরিবারের কাছে

ফিরে আসে। সে বাড়িটি খুঁজতে শুরু করে, কিন্তু তার

প্রতিটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রাচীন গ্রামের মাটি

তাকে নিজেকে চিনিয়ে দেয় না, যেখানে সে তার বাবা

র সাথে কখনও বাড়ি খুঁজে পায়নি।

একদিন তার মামা তাকে বলে দেয়, “আমাদের মূল বাড়ি

এখানে নয়, এখানে নদীর পানি ছিল। এখন এটি একটি চর

হয়ে গেছে।”

রফিক তখন নদীর পানি খুঁজে পায়, যেখানে তার পূর্বপ

ুরুষের মূর্তি ছিল। সে তাকে বাইরে আনে এবং একটি গু

প্ত প্রতিমা খুঁজে পায়, যা তার পরিবারের আসল ঐতিহ

্যকে বর্ণনা করে।

তবে এই প্রতিমা তাকে বাড়ি দেখায় না — এটি তাকে ন

িজের ভিতরে ফিরে আসতে বাধ্য করে। সে বুঝতে পারে যে

তার বাড়ি ছিল না একটি ভৌগোলিক জায়গা, বরং একটি

সামাজিক ঐতিহ্য যা তার মনে বাস করে।

সে ফিরে আসে ঢাকায়, তার বাবার সাথে কথা বলে, এবং

তার পরিবারের সাথে নতুন একটি সম্পর্ক বানায়। সে জ

ানতে পারে যে তার বাড়ি ছিল না কোনো বাড়ি — এটি ছ

িল তার পরিবারের স্মৃতি এবং সংস্কৃতি।