ঢাকার একটি প্রাচীন জমিদারি পরিবারে জন্মে শাহাবুদ
্দীন সে ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে। জমিদারি উত্তর
াধিকার তার কাছে কোনও স্বপ্ন নয়, তা ছিল এক বোঝা—
অস্থায়ী অর্থ ও গৃহীত আফসোসের সঙ্গে। তার বাবা কখ
নও তাকে নির্দেশ দিয়েছিল বাড়ি ছেড়ে যেতে, কিন্ত
ু শাহাবুদ্দীন তা কখনও করেনি। তিনি একজন গ্রাম্য ম
াতব্বর হিসেবে জীবনযাপন করেছিলেন, যেখানে জমিদারি
উত্তরাধিকার হল এক বৈষম্য ও অধিকার বিভাজনের চিহ্ন
।
প্রাচীন জমিদারি পরিবারের এই বাড়িতে বিদেশি চাকরি
র মোহ বাইরে থেকে আসে। তার একজন ভাই ইউরোপে বসবাস
করছিল এবং শাহাবুদ্দীনকে সেখানে যেতে অনুরোধ করছিল
। কিন্তু তিনি তা খারিজ করে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি
জানতেন যে বিদেশি চাকরির মোহ বাংলাদেশের মাটি থেক
ে চলে যাবে। তিনি মনে করতেন যে তার মাটি তার জীবনে
র সব কিছু চাই।
কিন্তু বিদেশি চাকরির মোহ তার পরিবারের অন্য সদস্য
দের কাছে একটি নতুন জীবন দিয়েছিল। তার মায়ের মৃত
্যু ঘটার পর তার পিতা এক প্রকার অন্ধ হয়ে গিয়েছি
লেন, এবং তিনি তার ছেলেকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বা
ধ্য করেছিলেন। শাহাবুদ্দীন অবশেষে তার ভাইয়ের সাথ
ে ইউরোপে যান, কিন্তু সেখানে তিনি বিদেশি চাকরির ম
োহের বাস্তবতা দেখেন। সেখানে জমিদারি উত্তরাধিকার
এক নিশ্চিত মৃত্যু ছিল, কারণ তিনি জানতেন যে বাংলা
দেশের মাটি ছাড়া তার জীবন কোনও মূল্যহীন হবে।
বিদ্রূপাত্মকভাবে, শাহাবুদ্দীন তার বাড়ি ফিরে এসে
ছিলেন কিন্তু তখন সেখানে কিছুই থাকছিল না। তার পিত
া মারা গেছেন, তার বাড়ি পুড়ে গেছে, এবং তার জমিদ
ারি উত্তরাধিকার এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শাহাবু
দ্দীন আত্মহত্যা করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন যে তা
র জীবন কোনও মূল্যহীন ছিল। তার মৃত্যু ছিল জমিদারি
উত্তরাধিকারের এক সমাপ্তি এবং বিদেশি চাকরির মোহে
র এক বিদ্রূপাত্মক শেষ।
এই ঘটনার মধ্যে একটি স্পষ্ট নিয়ম ছিল: জমিদারি উত
্তরাধিকার যেখানে থাকে, সেখানে কোনও বিদেশি চাকরির
মোহ কখনও সম্ভব হয় না। এবং বিদ্রূপাত্মকভাবে, শা
হাবুদ্দীন তার জীবন কোনও মূল্যহীন হিসেবে দেখেছিলে
ন, কারণ তিনি জানতেন যে তার জীবন তার মাটি ছাড়া ক
োনও মূল্যহীন ছিল।


