1948এর পাকিস্তান ভাঙা মাটির উপর গড়ে ওঠা এক চাষা

র বাড়ি পালিয়ে গেল সেই স্থানের মৃত সন্তানের দেহ

ের আস্তানা হিসেবে। পুরুষ তার মায়ের সাথে একটা ছো

ট জমির কথা মনে করে, যেখানে তার পিতা ফাঁকা বাড়ি

বানিয়েছিল এক ভূতের পুজো না হওয়া পর্যন্ত। জমির

নাম হয়েছিল খাল চর, যেখানে একদিন বাংলা ভাষা আন্দ

োলনের সময় এক মহিলা মারা যায় আর তার আত্মা অভিশা

প হিসেবে পাক খায় মাটির গভীরে।

1971এর যুদ্ধে এই জমি আবার পালিয়ে গেল বাইরের কার

ণে। বিধবা মা তার পুত্রকে সেখানে ফিরিয়ে আনে না,

কিন্তু সে নিজে কালে কালে সেখানে চাষ করে, গাছ লাগ

ায়, একটা ছোট বাড়ি বানায়। সে মানুষের বাসা না ক

রে ভূতের মাঝে বাসা বাঁধে, কারণ মাটি থেকে আসা বাত

াসে শুধু কাঁদার শব্দ আসে। তার বাড়ির পিছনে একটা

পুজোর কাঠের পাত্র পড়ে আছে, যা কেউ স্পর্শ করে না

— এটা শুধু তার বাবার আজ্ঞা ছিল, যে কেউ এই পাত্র

ছুঁয়ে ফেললে সে মারা যাবে না, কিন্তু তার মৃত্যু

পর্যন্ত কেউ তার কথা মনে করবে না।

1985এর এক শীতকালে ঢাকার বিদ্যুৎ টাওয়ার ভেঙে পড়

ে সেই এলাকায়। জমির মাটি নীচে নীচে ডাকে বাড়ির চ

াদর কেটে ফেলে। সেই রাতে পুরুষ আস্তানার বাইরে একট

া ছায়া দেখে যা তার মায়ের আকারে হাঁটছে, কিন্তু

মুখে কোনো চোখ নেই। সে পিছনে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির

দরজায় একটা চিঠি পায় — সামাজিক বয়কটের কাগজ, য

েখানে লেখা: “আপনি বাড়িতে থাকবেন না। এই জমি আমাদ

ের মৃত পিতার দান।” লেখা নেই, কিন্তু কাগজের কোণে

একটা সুতোর গুটি আটকে আছে — যেটা তার মা কালে কালে

তার গলায় বাঁধত।

পুরুষ সেই রাতে বাড়ির মাটি খুঁটে পাত্রটা বের করে

। পাত্রের ভেতরে ছিল একটা পাতলা কাপড়, যেখানে লেখ

া: “আমি তোমার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু তুমি শুনেনি।

এখন আমি তোমার মাটি নিচ্ছি।” পাত্রটা মাটির নীচে

মুখ নিয়ে একটা আকৃতি বানিয়ে তোলে। মাটি থেকে উঠে

এসে একটা বাঁধা নামের মানুষ হয়ে দাঁড়ায় — সে ত

ার পিতার মতো কালো চুল, কিন্তু চোখ নেই। মাথা ঘুরি

য়ে দাঁড়ায়, আর কথা বলে না — কিন্তু মাটি তার পা

য়ের নীচে খুলে যায়।

সকালে গ্রামের মানুষ আসে, কিন্তু কেউ তার বাড়ির দ

িকে তাকায় না। বাড়ির দরজা বন্ধ, মাটির কোণে একটা

কাপড় পড়ে আছে, যেটা তার মায়ের ছিল। পুরুষ আর ক

েউ নেই। শুধু মাটির ভিতর থেকে একটা নাম বার হয়ে আ

সে, কিন্তু কেউ শুনে না। বাড়ি আর মাটি এক হয়ে গে

ল। সেই মাটি থেকে আসা বাতাসে শুধু কাঁদার শব্দ আসে

এই মাটি আর কোনো মানুষের নয়। এটা একটা ধর্মীয় অন

ুশাসনের ফল, যেখানে মাটি কেউ স্পর্শ করলে তার মৃত্

যু হবে না, কিন্তু তার নাম হবে না। এখন সেই অনুশাস

ন বাসা বাঁধে এই মাটির মধ্যে।