1971 সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ঢাকার একটি গ্রামে দু
র্গা নামে এক বৃদ্ধা বিধবা বাড়ির ছাদে বসে শুধু ত
ার পুরানো জীবনের ছবি দেখছেন। তার পাশে তার ঝি সুল
তানা আসামী বাজার থেকে কিছু ফল আনছে। তখনই ঘরে একট
ি অপরিচিত মানুষ ঢুকে পড়ে — সে সুলতানার মামা নয়
, কিন্তু তার পরিচয় অস্পষ্ট। তার চোখে কোনও আলো ন
েই, কিন্তু সে খুব ঠান্ডা চোখে দুর্গার দিকে তাকায
়।
তার হাতে একটি পুরানো চাবি আছে, যা দুর্গার মামা ম
ুক্তিযুদ্ধে নিহত হওয়া পরিবারের বাড়ির চাবি। সে
দাবি করে যে সে সেই বাড়ির মালিক এবং তার পরিবার ত
াকে ফিরে আসার অধিকার দাবি করছে। দুর্গা ভাবে সে এ
কজন ক্রুদ্ধ ভূত, যে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবা
রের সাথে যুদ্ধ করেছিল।
তার পর একদিন সুলতানা একটি নদীর কাছে হারিয়ে যায়
। তখন দুর্গা বুঝতে পারে যে সেই অজানা অতিথি তার ক
াছে এসেছিল কারণ সে নদীর জলে ডুবে মারা যাওয়া সুল
তানাকে ফিরিয়ে আনতে। দুর্গা একটি সিদ্ধান্ত নেয়
— সে নদীর কাছে যায় এবং সেই ভূতকে ডাকে। সে বলে,
"তুমি যে ভূত তোমার কাছে সুলতানার চেহারা দেখাবে ক
িন্তু তাকে ফিরিয়ে আনার পর আমি তোমাকে সেই বাড়ির
চাবি দেব।"
সেই ভূত তার সামনে এসে দাঁড়ায় — সে সুলতানার চেহ
ারা নয়, কিন্তু তার চোখে কোনও আলো নেই। সে বলে, "
আমি তোমার মামার সাথে যুদ্ধ করেছিলাম কিন্তু আমার
মাথা দেখে আমি জানি তুমি তার কথা বলছ।" দুর্গা সেই
ভূতকে একটি বাড়ি দেয় এবং সেই নদীর পানিতে তার চ
িহ্ন অদৃশ্য হয়ে যায়।
তখন থেকে গ্রামে একটি নতুন সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হয
়। লোকেরা নদী ও চর জীবনের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি কর
ে। দুর্গা তার ঝি সুলতানাকে ফিরিয়ে পায় এবং তার
পরিবারের সাথে একটি নতুন শান্তি তৈরি হয়।


