গ্রামের সীমানায় লাইন টানা হয় না—মাটি প্রতিদিন
মানুষের ছায়া নিয়ে হাঁটে। ১৯৫৩এর মাঝামাঝি, জমিদ
ারি বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু কাউকে জমি দেওয়া হয়ন
ি। মাটি এখন শূন্য কাগজের মতো—চিহ্ন ছাড়া, স্বামি
ত্ব ছাড়া। ফেরিওয়ালা সামান আমান গাঁয়ের কাছে এক
টা খালি জমি দাবি করে, কারণ তার বাবার সাক্ষ্য পুর
ো জমির উপরে একটা পাথরে খোদাই করা আছে—"আমি মালিক,
আমার মাটি বাপের থেকে পাওয়া।"
পুরুষ বলে না, কিন্তু তার হাতে জমির কাগজ আছে—১৯৪৭
এর নথিতে পাঁচ বিঘা মাটি তার নামে নামানো হয়েছে।
কিন্তু সেই নথি আজ কেউ মানে না। গ্রামের সম্প্রদায
় বলে মাটির টান কেউ মানে না—শুধু আগের বাড়ির সাক
্ষ্য মানে। সামাজিক বয়কট শুরু হয়। মাঠে যাওয়া ন
িষেধ, বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, বিয়ের কথা কাটা হ
য়। সামান সেই জমি কাটে না, কিন্তু মাটির নামে তার
হাতে তার বাবা যে পাথর গাছের গোড়ায় পুঁতেছিল, স
েটা আজ উঠে আসে।
বয়কটের তৃতীয় রাতে সামান মাটির মধ্যে হাত দিয়ে
আবার খোঁজ শুরু করে। হাতে কোনো পাথর নেই, শুধু জমি
র মাটি ভেঙে গেছে—একটা নতুন মাটির চিহ্ন বেরিয়ে এ
সেছে। তার পাশে একটা ছোট কাঠের বাক্স, মাটি দিয়ে
ঢাকা। খুলে দেখে—মায়ের চুলের টুকরো, একটা পুরানো
বাংলা বইয়ের পাতা যাতে লেখা: "মাটি আমার জীবন, আম
ি মাটির জীবন।"
সেই রাতে সামান মাটির মধ্যে ঘুমিয়ে যায়। ঘুমের ম
ধ্যে শুনে—হাতে মাটি টানে, মাটি বলে: "তুমি ফেরিওয
়ালা, তোমার কাজ কোনো মাটি দেখা নয়, মাটি দেখা তো
মার কাজ।"
সকালে সে মাটির উপরে বসে আছে। কেউ তাকে বলে না কিছ
ু। মাটির উপরে আবার মাটি ফেলা হয়েছে—সে একটা কাঠে
র তাক তৈরি করে, মাটির উপরে তার নাম লেখে। তার হাত
ে কোনো কাগজ নেই, কিন্তু গ্রামের সবাই জানে কার জম
ি। তার কাছে একটা বাড়ির চাবি এসে পড়ে—সে সেই বাড
়ি দিয়ে নিজের জীবন শুরু করে।
বিষণ্ণ আকাশে একটা কালো মেঘ নেমে এসেছে। সামান জান
ে, আজ বৃষ্টি হবে। সে মাটির উপরে হাত দিয়ে বলে না
, কিন্তু মাটির মধ্যে হাত দিয়ে জানে—এখন মাটি তার
।


